০৮/০৭/২০২০ ১৯:৩২:৪৭

matrivhumiralo.com পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন

প্রতি মুহূর্তের খবর

o নদীগর্ভে সম্পূর্ণ বিলীনের পথে বাদুরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় o ঝালকাঠিতে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবক নিহত o জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি অসুস্থ o লঞ্চডুবির ঘটনায় ৩২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার o অক্সিজেন ব্যাংকের উদ্বোধন করেছে বাসদ
আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  মতামত  >  শান্তির ধর্ম ইসলাম ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়

শান্তির ধর্ম ইসলাম ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়

পাবলিশড : ২৬/০৪/২০১৭ ১৯:১২:৪৫ পিএম
শান্তির ধর্ম ইসলাম ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে করণীয়

মাতৃভূমির আলো ডেস্ক ::

তথাকথিত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো নিজেদের খাঁটি ইসলামের সমর্থক বলে বিবেচনা করে। এদের মধ্যে সালাফি, ওয়াহাবি, আল কায়েদা, তালেবান, আইএসসহ সব ধরনের কট্টরপন্থী ইসলামী গোষ্ঠীগুলো অন্তর্ভুক্ত।
প্যারিস, লন্ডন ও নিউ ইয়র্কের হামলাগুলো কোরান অনুমোদন ও সমর্থন করে বলে এই জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো দাবি করে থাকে। অপরদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানরা এসব নৃশংসতার নিন্দা করেছেন। এই বিতর্কের বাইরে যারা আছেন, তাদের কাছে বিষয়টি বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে।
কোন পক্ষ সত্য বলছে? ইসলাম কি একটি বিপজ্জনক ধর্ম?
যুদ্ধ ঘোষণা এবং যুদ্ধের পক্ষে সাফাই, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উভয় ধরনের কার্যক্রম কেন কোরান সমর্থিত নয়, সে বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরা হল।
খোলাখুলি বললে, আল্লাহ মুসলমানদের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধ ঘোষণার অনুমতি দিয়েছেন; এর জন্য কঠোর নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হয় যা জিহাদিরা মেনে চলে না।
এখানে কিছু নিয়ম ও শর্তাবলী উল্লেখ করা হল–
প্রথমত, মুসলমানরা বিনা-উসকানিতে যুদ্ধ শুরু করতে পারে না। তারা শুধু আত্মরক্ষার জন্য লড়াই করতে পারে। শুধুমাত্র নিজ বাড়ি থেকে বা নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হলেই কেবল মুসলমানদের পাল্টা লড়াই করার অনুমতি দিয়েছেন আল্লাহ। যখন নিরস্ত্র লোকজন আক্রমণের শিকার হন এবং তাদের মুসলিম মিত্রদের কাছে সাহায্য চান তখন যুদ্ধ ঘোষণা করা যাবে। বৈধ যুদ্ধের শেষ কারণ হতে পারে বিশ্বাসী দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এক পক্ষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার পরও অপর পক্ষের যুদ্ধ অব্যাহত রাখা।
এমনকি যুদ্ধ এবং লড়াইয়ের ক্ষেত্রেও কোরান কর্মকাঠামো ও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা বেঁধে দিয়েছে। শত্রুরা যদি শান্তির প্রস্তাব দেয়, মুসলমানদের তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা উচিত।
দ্বিতীয়ত, মুসলমানদের পবিত্র বিধান লঙ্ঘন করার অনুমতি দেওয়া হয়নি–
“আল্লাহর পথে লড়াই কর, তাদের সঙ্গে যারা তোমাদের সঙ্গে লড়াই করে, কিন্তু কখনও সীমা লঙ্ঘন কোরো না, কারণ আল্লাহ সীমা লঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।”
আইএসের প্রস্তাবিত অনিয়ন্ত্রিত, সার্বিক ধ্বংসযজ্ঞ আদতে পুরোপুরি অনৈসলামিক।
তৃতীয়ত, মুসলমানদের যুদ্ধবন্দিদের প্রতি সম্মানজনক ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আইএসের প্রচারিত প্রপাগান্ডা ভিডিওতে যেমন দেখানো হয়েছে তেমনিভাবে তাদের শিরশ্ছেদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
যুদ্ধের পর বন্দিদের মুক্ত করে দেওয়ার বিধান দেওয়া হয়েছে, তা মুসলিম বন্দিদের বিনিময়েই হোক বা শুভেচ্ছার নিদর্শন হিসেবে হোক। যুদ্ধবন্দিদের দাস হিসেবে বা ভবিষ্যৎ সেনা হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। শত্রুদের ওপর নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস চাপিয়ে দেওয়ার অনুমতিও ইসলামের অনুসারীদের দেওয়া হয়নি।
কোরানের বিধান অনুযায়ী, জিহাদিরা অন্য জাতির সঙ্গে সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধিগুলো বিলোপ করতে পারবে না। কোরান ইঙ্গিত দিয়েছে, যারা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি এমন লোকজনের প্রতি শত্রুতা দেখানো মুসলমানদের জন্য অনুচিত। এই বাণীতে বলা হয়েছে, যারা মুসলমানদের নিজ ভূমি থেকে বহিষ্কার করেনি, বা বহিষ্কার করতে সাহায্য করেনি, তাদের সঙ্গে মুসলমানদের সৌহার্দ্যমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত। এভাবে এটা পরিষ্কার হয় যে, কোরান মুসলমানদের দয়ালু হতে বা মুক্ত চিন্তুার মানুষ হওয়া থেকে বিরত করেনি।
কোরানে লড়াই করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে মূলত আত্মরক্ষার্থে এবং প্রতিক্রিয়ামূলক উদ্দেশ্যে। কোরানের প্রকৃত অনুসারীকে কখনও যুদ্ধ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং যুদ্ধ শুরু হলেও মুসলমানদের নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটা সেই ইসলাম যা অধিকাংশ মুসলমান অনুসরণ করে; মূলগতভাবে এটি অন্যান্য ধর্মের ও জাতির লোকজনের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের একটি গাইডলাইন।

এ বিভাগের সর্বশেষ