২৪/০৯/২০২০ ০২:১৪:৪৪

matrivhumiralo.com পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন

প্রতি মুহূর্তের খবর

o শান্তিরক্ষা মিশনে গৌরবময় অর্জন রয়েছে নারী পুলিশ o নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশের মহড়া o অসহায় মানুষের পাশে পথশিশু ফাউন্ডেশন o অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ o মুজিব বর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  জাতীয়  >  কবরস্থানে মায়ের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত ডাঃ আনোয়ার

কবরস্থানে মায়ের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত ডাঃ আনোয়ার

পাবলিশড : ০৯/০৬/২০২০ ২৩:৪১:২৯ পিএম
কবরস্থানে মায়ের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত  ডাঃ আনোয়ার

মাতৃভূমির আলো ডেস্ক ::

গরীবের ডাক্তার নামে খ্যাতি ছিলো তার। অনেকে আবার রোগী বান্ধব ডাক্তার নামেও চিনতেন। নগরীতে একজন সফল ডাক্তার হিসাবে বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। আর এ সফলতাই তাকে নগরীর সবচেয়ে বড় প্রাইভেট হাসপাতাল তৈরী করতে সমর্থ জুগিয়েছে। চিকিৎসা সেবা দিয়ে জীবনের প্রতিটি চূড়ায় সফল হওয়া সেই চিকিৎসক ডাঃ আনোয়ার হোসেন মৃত্যুর পূর্বে অনেকটা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরন করেছে। জীবনের প্রতিটি মূহুর্ত মানুষকে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা এই চিকিৎসকের কপালে জোটেনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা। মৃত্যুর পূর্বে কাঙ্খিত হাসপাতালে ভর্তিই হতে পারেননি তিনি। পরে একাধিক হাসপাতালে যোগাযোগ করতে করতে বিদায় ঘন্টা বেঁজে যায় চরম মুমূর্ষ অবস্থায় থাকা ডাঃ আনোয়ারের। ডাঃ আনোয়ারের স্বজনরা বলেন, তিনি সহ পরিবারের সিদ্ধান্ত ছিলো ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিবেন তিনি। এখানে উল্লেখ্য যে মূমুর্ষ অবস্থায় থাকা ডাঃ আনোয়ারের সর্বাগ্রে আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু ঢাকায় পৌছে এ্যাপোলো হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয় আইসিইউ বেড খালি নেই। এরপর দ্বিতীয় পছন্দের হাসপাতাল সিকদারে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকেও একই বার্তা আসে। খালি নেই আইসিইউ। সোমবার বিকেলে হেলিকপ্টার যোগে ঢাকায় পৌছে পছন্দের এই দুই হাসপাতালে ভর্তির চেষ্টা করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। তারপরও কোন ব্যবস্থা করতে না পারায় শেষমেষ বাড্ডার এজেডএম হাসপাতালে রাত নাগাত ভর্তি করা হয়। পরে রাত পৌনে ৩ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি। যদিও এই হাসপাতালে আইসিইউ সাপোর্ট পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু যখন তাকে আইসিইউ সাপোর্টে দেয়া হলো তখন তার অবস্থা আরো সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। রাহাত আনোয়ার হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে,দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর রোগীদের কথা বিবেচনা করে সরকারের আহবানে সাড়া দিয়ে নিজের হাসপাতাল চালু রেখে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন ডা. আনোয়ার। এরই মধ্যে উপসর্গ গোপন করে তার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন কিছু করোনা রোগী। একপর্যায়ে গত সপ্তাহে হাসপাতালের দুই স্টাফের শরীরে শনাক্ত হয় করোনা। ৩ থেকে ৪ দিন আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. আনোয়ার নিজেই। বরিশাল শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ডা. অসীত ভূষণ জানান, সোমবার সকালে তার শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে কমে যায়। এ অবস্থায় সোমবার বিকেলে গুরুতর অবস্থায় হেলিকপ্টারযোগে তাকে বরিশাল থেকে ঢাকায় নেয়া হয়। রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা খালি না পাওয়ার পর তাকে বাড্ডার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে রাত পৌঁনে ৩টার দিকে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। শহরের বান্দরোডস্থ রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের মালিক ডাক্তার আনোয়ার স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবেও বরিশালে ব্যাপক পরিচিতি ছিলো ডাঃ আনোয়ার হোসেনের। তার মৃত্যুতে বরিশালের চিকিৎসকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রথম নামাজে জানাজা নিজের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণাঞ্চলের সর্বাধুনিক বেসরকারি রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে অনুষ্ঠিত হয়। পরে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার বিনয়কাঠী ইউনিয়নের নাক্তা গ্রামে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত করা হয়।
এ বিভাগের সর্বশেষ