০৪/০৪/২০২০ ১০:৩১:১৭

matrivhumiralo.com পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন

প্রতি মুহূর্তের খবর

o করোনা মোকাবিলায় মেডিক্যাল টিমসহ ১০০ সেনাসদস্য o করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী o করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর মতবিনিময় o করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সুন্নতে খাৎনার অনুষ্ঠান বন্ধ o আগামী সপ্তাহ করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ
আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  মতামত  >  উইঘুরের বন্দী শিবির : সাংস্কৃতিক গণহত্যায় চীনের যতো আয়োজন

উইঘুরের বন্দী শিবির : সাংস্কৃতিক গণহত্যায় চীনের যতো আয়োজন

পাবলিশড : ২৯/০১/২০১৯ ১৮:০১:১০ পিএম
উইঘুরের বন্দী শিবির : সাংস্কৃতিক গণহত্যায় চীনের যতো আয়োজন

মাতৃভূমির আলো ডেস্ক ::

২০১৭ সালে চীন উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের ‘জিংজিয়াং উইঘুর স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশে’ বহু সংখ্যক বন্দী শিবির তৈরির কাজ শুরু করে। এসব বন্দী শিবিরে জাতিগত সংখ্যালঘু উইঘুরদের বিরুদ্ধে শুরু হয় বিশেষ অভিযান। বর্তমানে এক মিলিয়নেরও বেশি উইঘুর ও কাজাক মুসলিম এসব বন্দী শিবিরে বিনা বিচারে আটক রয়েছে। চীন এসব বন্দী শিবিরকে ‘কারিগরি ট্রেনিং সেন্টার’ হিসেবেই অবহিত করে। কিন্তু নিষ্ঠুর রাজনৈতিক শাসনের পক্ষে মিথ্যা সাক্ষীদান এবং স্বধর্মের সমালোচনায় বাধ্য করা, সংকীর্ণ আবাসন ব্যবস্থা, অপর্যাপ্ত খাবার এবং শারীরিক নির্যাতন প্রমাণ করে চীন উইঘুর-কাজাক মুসলিমদের নির্মূল করতে চাচ্ছে।
এই অঞ্চলের যেসব মুসলিম ক্যাম্পে বন্দী নয়, তারাও বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধের ভেতর বাস করে। তাদের জন্যও রাজনৈতিক সভা ও চীনা ভাষা শিক্ষার ক্লাসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। চীন সরকারের দমনমূলক তৎপরতায় জিংজিয়াংয়ের সাধারণ জীবনযাত্রা পর্যদুস্ত। তাই বলে এই অঞ্চলের মুসলিমরা অন্য কোথাও গিয়ে স্বাধীন জীবনযাপন করবেন সেই সুযোগও রাখা হয়নি তাদের সামনে। চীন সরকার এই অঞ্চলের মুসলিমদের পাসপোর্ট জব্দ করে রেখেছে এবং যে কোনো বৈদেশিক যোগাযোগ কঠোর বিধি-নিষেধ রয়েছে অত্র অঞ্চলে। এমনকি চীনের এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতেও প্রয়োজন হয় বিশেষ অনুমতির।
ধর্মীয় তৎপরতাও কঠোর নিয়ন্ত্রণাধীন। বিশেষত ইসলাম ধর্মের প্রতি সরকার অত্যন্ত কঠোর। এসব বিষয়ে নজরদারি করতে ব্যবহার করা হয় উচ্চপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক।
চীনের দাবি তারা এসব ‘শুদ্ধি ক্যাম্প’ স্থাপন করেছে চরমপন্থা দমনের জন্য। তবে এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট বহু ব্যক্তি এবং বন্দী শিবিরে থাকা বহু উইঘুর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব –কবি, লেখক, শিক্ষাবিদ, প্রকাশক, গায়ক ও অভিনয় শিল্পী- এই বন্দীশিবিরকে সাংস্কৃতিক গণহত্যার আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তারা বলেছেন, ক্যাম্পগুলোকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে স্থানীয় ভাষা, সভ্যতা ও সংস্কৃতির মূলোৎপাটন করা যায়। এবং একজন ধর্মপ্রাণ মানুষকে সেক্যুলার ও কথিত দেশপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলা যায়। সবমিলিয়ে উইঘুররা যে অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে তাকে শুধু সংস্কৃতিক গণহত্যাই বলা যায়।
পুরো কাশগড় পরিণত হয়েছে কারাগারে …
২০১৬ সাল থেকে জিংজিয়াংয়ের রাজনৈতিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সরকার উইঘুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সার্বিক কার্যক্রমের উপর নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের বিধি-নিষেধের মধ্যে নিয়ে আসে। অঘোষিতভাবেই উইঘুরদের বিদেশ গমন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। উইঘুরের ছাত্ররাও উচ্চ শিক্ষার দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পায় না।
উইঘুর অঞ্চলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে কয়েকটি মুসলিম নাম। নবজাতকদের এসব নাম রাখা আইনত অপরাধ।
সম্প্রতি উইঘুরের ধর্মীয়, সামাজিক ও সংস্কৃতিক নেতৃত্বদানকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বন্দী ও নির্যাতনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। উইঘুরদের মধ্যে কোনো ধরনের নেতৃত্ব যেন গড়ে না ওঠে সেটা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় জিংজিয়াংয়ের নারী কণ্ঠশিল্পী সানুবারকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কারাগারে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাকে কারাগারের যে সেলে রাখা হয়েছে সেখানে আরও ৬০ জন নারী বন্দী রয়েছেন। স্থান সংকুলান না হওয়ায় তারা ২৪ ঘণ্টাকে শিফট আকারে ভাগ করে শুধু এক শিফটে ঘুমান। সানুবারকে বাধ্য করা হচ্ছে অন্যদেরকে চীনের জাতীয় সংগীত শেখাতে। সাধারণভাবে এই ক্যাম্পে নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতির সমালোচনা করতে বাধ্য করা হয়। সংগীত শিল্পী সানুবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ উঠেছে এসব ক্যাম্পে বন্দীদের অভূক্ত রাখা হয় এবং সেখানে শারীরিক নির্যাতনের মাত্রাও দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে এবং অনেকে আত্মহত্যা পর্যন্ত করছে।
এছাড়াও উইঘুরের বেশ কয়েকজন লেখক, শিল্পী ও অভিনেতা কারাগারে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন, আদিল মাজিদ, রাশিদা দাউদ, জহির শাহ, পিরাইড মাহমুদ প্রমুখ।
সূত্র : ফরেন পলিসি ও দ্য গ্লোবাল পোস্ট অবলম্বনে

এ বিভাগের সর্বশেষ