০৬/০৬/২০২০ ০৭:২০:৪৬

matrivhumiralo.com পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন

প্রতি মুহূর্তের খবর

o ফেরিঘাটে আটকেপড়া মানুষদের ফিরে আসার আহ্বান : বেনজীর আহমেদ o স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ পড়তে হবে o করোনা মোকাবিলায় মেডিক্যাল টিমসহ ১০০ সেনাসদস্য o করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী o করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়
আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  বিনোদন  >   বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইজির ১২৭তম তিরোধান দিবস

বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইজির ১২৭তম তিরোধান দিবস

পাবলিশড : ১৬/১০/২০১৭ ১০:৫১:৩০ এএম
 বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইজির ১২৭তম তিরোধান দিবস

মাতৃভূমির আলো ডেস্ক ::

জ ১৬ অক্টোবর, পহেলা কার্তিক। বাউল সম্রাট মহামতি ফকির লালন সাঁইজির ১২৭তম তিরোধান দিবস। এ উপলক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।

এবার উৎসবের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘কে তোমার আর যাবে সাথে।’ আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আখড়াবাড়ির মূল আঙিনার বাইরে মরা কালীগঙ্গা নদীর তীরে লালন উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে লালন স্মরণোৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ।  

মরমী সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের স্মরণানুষ্ঠান উপলক্ষে লালন একাডেমী আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দলে দলে মানুষ এখন ভিড় জমাতে শুরু করেছেন ছেঁউড়িয়ায়। সাঁইজির সান্নিধ্য লাভের আশায় তারা ছুটে আসছেন। 

মহামতি ফকির লালন সাঁইজি। যিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার, গায়ক, বাউল সম্প্রদায়ের গুরু, মানবতাবাদী মনিষী ও লৌকিক ধর্মাচার প্রতিষ্ঠার পুরোধা পুরুষ। তাঁর জন্ম ও ধর্ম নিয়ে আছে বিতর্ক। লালন গবেষকদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন, ১৭৭৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ভাঁড়রা গ্রামে আবার কোনো কোনো গবেষকের মতে, ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। আবার এ দুটি মতের সঙ্গেও কারো কারো ভিন্নমত রয়েছে। ফকির লালন সাঁই নিজে তাঁর জন্ম, ধর্ম, জাত-কুল সম্পর্কে কখনো কিছু বলে যাননি। তবে তিনি তাঁর গানে বলেছেন, ‘‘সব লোকে কয় লালন কিজাত সংসারে, ফকির লালন কয় জেতের কিরূপ আমি দেখলাম না দুই নজরে” আবার আরেকটি গানে তিনি বলেছেন ‘‘এমন সমাজ কবে-গো সৃজন হবে। যেদিন হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান জাতি গোত্র নাহি রবে’’।

জনশ্রুতি রয়েছে, ১৭৯০ সালে তীর্থ ভ্রমণে বেড়িয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন লালন। সঙ্গী সাথিরা একপর্যায়ে তাঁকে মৃত ভেবে নদীতে ভেলায় ভাসিয়ে দেন। ভেলা ভাসতে ভাসতে কুষ্টিয়ার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেউড়িয়া গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর তীরে আটকে যায়। এ সময় নদীতে জল আনতে গিয়ে ছেউড়িয়া গ্রামের মতিজান বিবি ভেলায় তীরে আটকে থাকা মৃতবত্ লালনকে দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক তাঁর স্বামী মলম শাহকে বিষয়টি বলেন। তখন মলম শাহ দ্রুত নদী থেকে তুলে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন লালনকে। এরপর দীর্ঘ সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন লালন। প্রসঙ্গত, মতিজান বিবি ও মলম শাহ দম্পতি নিঃসন্তান ছিলেন। পরবর্তীতে লালন তাদের পালক সন্তান হিসেবে ছেউড়িয়াতেই আমৃত্যু বসবাস করেন।  

 

এ বিভাগের সর্বশেষ