০৬/০৬/২০২০ ১৯:৩০:০২

matrivhumiralo.com পড়ুন ও বিজ্ঞাপন দিন

প্রতি মুহূর্তের খবর

o ফেরিঘাটে আটকেপড়া মানুষদের ফিরে আসার আহ্বান : বেনজীর আহমেদ o স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ পড়তে হবে o করোনা মোকাবিলায় মেডিক্যাল টিমসহ ১০০ সেনাসদস্য o করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী o করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়
আপনি আছেন : প্রচ্ছদ  >  মতামত  >  ঈদুল আযহায় ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত, ৬৯৬ জন আহত

ঈদুল আযহায় ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত, ৬৯৬ জন আহত

পাবলিশড : ১৩/০৯/২০১৭ ১৫:১৯:২৯ পিএম
ঈদুল আযহায় ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত, ৬৯৬ জন আহত

যাত্রী কল্যাণ সমিতি ::

বিগত ঈদুল আযহায় দেশের সড়ক মহাসড়কে ২১৪ টি সড়ক দূর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সম্মিলিতভাবে ২৭২ টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৭৫৯ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। 

আজ ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে নগরীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত চার বছর যাবত বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এবারের ঈদযাত্রায় দূর্ভোগের শঙ্কা দেশের গণমাধ্যমগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করায় অনেক আগেভাগে ঈদযাত্রা শুরু হওয়ায় ঘরমুখো যাত্রা ফেরত যাত্রার চেয়ে খানিকটা স্বস্তিদায়ক হলেও ফিরতি যাত্রায় ভোগান্তি ও  সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে। 

ঈদ যাত্রা শুরুর দিন ২৮ আগষ্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ০৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২১৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত ও ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে নৌ-পথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছে। উল্লেখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪৩ জন নিহত হয়।  বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক ও ১০টি অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লেখিত সময়ে সড়ক দূর্ঘটনার সংখ্যা নিন্মরূপ :

 

একই সময়ে রাজশাহীর মোহনপুরে বাস ও মোটর সাইকেল সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য সেলিম মিয়া, যশোরের ঝিকড়গাছায় বাস চাপায় বিজিবির ল্যান্স করপোরাল মফিজুল ইসলাম, দিনাজপুরের বীরগঞ্জে পিকআপ চাপায় সেনা সদস্য মোহাম্মদ সাজু, ফেনীর মুহুরীগঞ্জে পুলিশের এএসআই মশিউর রহমান, রংপুরে কোমরগঞ্জ দ্ধিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আবদুল ওয়ারেজ, বাগেরহাটের কচুয়ায় পুলিশ সদস্য মিরাজ শিকদার, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় আল-গাযযালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম জমাদার, পাবনা চাটমোহরে নৌকাডুবে টেবুনিয়া শামসুল হুদা ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, নাটোরের তোকিয়া বাজারে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ক্যাশিয়ার জয়নাল আবেদিন মিন্টু, রাজধানীর বনানীতে বাসের ধাক্কায় নৌবাহিনীর সদস্য আলাল উদ্দিন, কুমিল্লায় পুলিশ সদস্য হোসেন সরকার, ময়মনসিংহে তারাকান্দায় ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মোমেন শাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন জিহাদি মারা যায়। 

দূর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষনে দেখা যায়, মোট সংগঠিত সড়ক দূর্ঘটনার ৩৯.১০ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা, ১২.৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে, ৩২.৬০ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ,  ১.৪০ শতাংশ চাকায় উড়না পেছিয়ে, ৩.২০ শতাংশ গাড়ীর ছাদ থেকে পড়ে ও ১১.২০ শতাংশ অনান্য কারনে ঘটেছে। যানবাহনের ৩৭ ভাগ বাস, ৩৫ ভাগ ট্রাক ও পিকআপ,  ২৩ ভাগ নছিমন-করিমন, ভটভটি-ইজিবাইক, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেল, ৫ ভাগ অন্যান্য যানবাহন এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, (১) ভাঙ্গা ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তাঘাট, (২) অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো,  (৩) বিপদজনক ওভারটেকিং  (৪) যানজটে আটকে থাকা বাণিজ্যিক টিপধারী পরিবহনগুলোকে অতিরিক্তি মুনাফার আশায় দ্রুত ফেরত আসার জন্য মালিক পক্ষের বারবার তাগাদা (৫) ধীরগতির পশুবাহী ট্রাক, নছিমন-করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, অটোরিক্সা, ব্যটারিচালিত রিক্সা, প্যাডেলচালিত রিক্সার সাথে বাণিজ্যিক টিপধারী দ্রুতগতির বাস ও মাইক্রোবাস, কার একইসাথে চলাচল (৬) টিনএজদের দ্রুত গতির মোটর সাইকেল (৭)  ফুটপাত দখলে থাকায় অথবা ফুটপাত না থাকায় রাস্তার উপরদিয়ে যাতায়াত এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। 

সুপারিশমালা: (১) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ে সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধ সেল গঠন (২) যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ, (৩) মহাসড়কে দ্রুত গতি ও ধীর গতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থা (৪) মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট করা, (৫) সড়ক মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করা (৬) মানসম্মত ও নিরাপদ যানবাহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা (৭) নিরাপদ ও প্রশিক্ষিত চালক গড়ে তোলা, (৮) দেশের সড়ক-মহাসড়কে পথচারী বান্ধব ফুটপাত, জেব্রা ক্রসিং, ওভারপাস, আন্ডারপাস গড়ে তোলা (৯) ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা করা, (১০) মহাসড়কে নছিমন-করিমন, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, অটোরিক্সা বন্ধে সরকারের গৃহিত সিদ্ধান্ত শত ভাগ বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিশৃংখলা, অব্যবস্থাপনা ও আইনের শিথিলতার কারনে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়ক দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেমন দীর্ঘায়িত হচ্ছে তেমনি যানজট ও জনজটের ভোগান্তি ও বাড়াচ্ছে।

বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, প্রতিবছর দুর্ঘটনার একই চিত্রে দেখা গেলেও এই ক্ষেত্রে সরকার কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সংগঠিত দুর্ঘটনার দায়ভার ও দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, নিরাপদ ঈদ যাত্রা নিশ্চিত করতে শুধু সড়ক পথের উপর নির্ভরশীল না থেকে নৌ-পথ, রেলপথের উন্নয়ন ও সংস্কার জরুরী।

সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের যুগ্ন সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে হলে চালকদের নিয়োগপত্র দিতে হবে, চালকদের মাঝপথে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। দুরপাল্লার বাসে ২ জন করে চালক নিয়োগ দিতে হবে।

সোসাইটি ফর ইমারজেন্সি মেডিসিনের সভাপতি ও সড়ক নিরাপত্তা জোট শ্রোতা সদস্য ডাঃ হুমায়ন কবির বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। সারাদেশে এখনও পর্যাপ্ত এম্বুলেন্স ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। সরকারী ও বেসরকারী ভাবে পর্যাপ্ত এম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করতে হবে। 

এইসময় অনান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এক্সিডেন্টে রিচার্জ ইনিষ্টিটিউটের বুয়েট সাবেক পরিচালক ড. মাহবুব আলম তালুকদার, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী, মো. আজিজুল হক চৌধুরী, মিলাদ উদ্দিন মুন্না প্রমূখ।

এ বিভাগের সর্বশেষ